জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে এনসিপি
এপ্রিল ১৯, ২০২৫
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে দ্বিমত বিএনপির
এপ্রিল ২০, ২০২৫
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে এনসিপি
এপ্রিল ১৯, ২০২৫
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে দ্বিমত বিএনপির
এপ্রিল ২০, ২০২৫

আরেকটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা আসার সকল রাস্তা বন্ধ করবো: নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে না—এই পথ চিরতরে রুদ্ধ করতে হবে। এবার আমাদের সামনে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সবাই মিলে একটি নতুন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে।”

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এনসিপির সংলাপে প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়োজন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। জনগণ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেটির মাধ্যমে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসকের পতন ঘটিয়েছে। হাজারো শহীদের রক্ত ও অসংখ্য আহত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।”

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এনসিপির জন্ম। এই দলটি তরুণদের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে এবং আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—ফ্যাসিবাদের অবসান ও একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা।”

তিনি বলেন, “এটি কেবল ক্ষমতা বদলের প্রশ্ন নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি মানুষের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। আমরা চাই, এবারের অভ্যুত্থান যেন আর কোনোভাবেই অতীতের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি না হয়। জাতির ভেতরে যে আশার আলো জ্বলে উঠেছে, সেটিকে বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা এনসিপিতে সংস্কার বলতে মৌলিক, রূপান্তরমুখী সংস্কার বুঝি—যা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে আমূল বদলে দিতে সক্ষম। দীর্ঘদিন ধরে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ হয়েছে। সংবিধানে একব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, শাসনব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা থেকেই গেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্রের কাঠামো, সংবিধান, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থাসহ সার্বিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া এই ফাঁদ থেকে মুক্তি মিলবে না। আমরা সেই দিকেই এগোচ্ছি।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একমত হয়েছি। কিছু বিষয়ে আংশিক ভিন্নমত বা মতানৈক্য থাকলেও, সেগুলোর জন্য সংক্ষিপ্তভাবে আমাদের সুপারিশ পাঠিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি সর্বসম্মত জাতীয় সনদের দিকে এগোনো।”

শেষে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে জাতির প্রতি আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার—একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”

Old
Old

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *