ঢাবির ‘খ’ ইউনিটে ভর্তির ফল প্রকাশ
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮
দেবীদ্বারে নবজাতককে তিন খণ্ড: আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মী বহিষ্কার
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

বন-পাহাড় ধ্বংস হচ্ছে: প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন

জাকির হোসেন: প্রায় প্রতিবছর দেশে পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর পরও বোধোদয় হয় না মানুষের। আড়ালে-আবডালে নিয়মিতই পাহাড় কাটা চলছে। পাহাড় কেটে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। গড়ে তোলা হচ্ছে জনবসতি। কিছু মানুষ অর্থের লোভে এসব কাজ করছে। তেমনই একটি খবর এসেছে।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকা বারিকটিলা কেটে বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। মেঘালয় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া সীমান্ত নদী যাদুকাটার তীরে বাংলাদেশ অংশে পাহাড় আকৃতির উঁচু টিলাটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে থাকে। সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত এই টিলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মিশনারি বিদ্যালয়, একটি গির্জা ও একটি মসজিদ রয়েছে। টিলার নিচে আছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। এই ক্লিনিকের নিচের অংশে গত বছর টিলা কেটে পাঁচ থেকে সাতটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। টিলার পশ্চিমাংশে যেখানে কাটা হয়েছে, সেখানে কয়েক দিন আগের বৃষ্টিতে টিলা ভেঙে বালু ও পাথরে রাস্তা ও ফসলি জমি ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বসতি স্থাপন বন্ধ করা না গেলে পুরো টিলা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে সেখানে সামাজিক বনায়নও হয়েছে। গড়ে উঠেছে মূল্যবান বাগান। দখলদারদের দৃষ্টি পড়েছে এই বাগানের দিকে। বাগানে রয়েছে বড় বড় পাথর। রাতের অন্ধকারে পাথর উত্তোলনের কাজ চলছে। বনভূমির একটি অংশের গাছপালা কেটে উজাড় করে ফেলা হচ্ছে। কিছুদিন আগে ওই এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়ে দখলবাজদের ওই ভূমিতে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। অবৈধ ও বেআইনিভাবে গাছপালা কেটে ফেলায় পাহাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। পাথর উত্তোলন করায় ভারসাম্য হারাচ্ছে পাহাড়। অথচ আমাদের দেশে ১৯৯৫ সাল থেকে পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে—এমন শক্তিশালী এরা কে? অবৈধভাবে কেউ পাহাড় কাটলে বা বসতি স্থাপন করলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার করা সম্ভব।

সুনামগঞ্জের পাহাড় কেটে যারা বসতি স্থাপন করছে কিংবা অবৈধভাবে পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলন করছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। স্থানীয় প্রশাসন এই দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: