গোপালগঞ্জে মামা বাড়ী বেড়াতে এসে লাশ হতে হলো পাপড়ীকে
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮
জোকস’ শুনিয়ে ৪ হাজার সম্পর্ক ভাঙলেন যিনি!
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

পায়রা সমুদ্রবন্দর: অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো গতি আনুক

জাকির হোসেন: দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সমুদ্রবন্দরটি নির্মিত হচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রায়। এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে সেখানে পণ্য খালাশের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। গত তিন অর্থবছরে এই বন্দর থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪২ কোটি টাকারও বেশি। আশা করা হচ্ছে, ২০২১ সাল নাগাদ একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে পায়রার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা যাবে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের রূপ নেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পায়রাকে কেন্দ্র করেই দেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উঠবে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশের অর্থনীতিও অনেক বেশি গতিশীল হবে এই বন্দরের কারণে।

এখন পর্যন্ত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হচ্ছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। মোংলা সমুদ্রবন্দরও ইতিমধ্যে অনেক গতিশীল হয়েছে। তার পরও সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সমুদ্রবন্দর ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে অনেককেই শঙ্কা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তাঁরা মনে করছেন, ভারতের বিপুল পরিমাণ পণ্য ওঠানামার ধকল সামলাতে গিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি না ক্ষতিগ্রস্ত হয়! ওদিকে নেপাল, ভুটান এবং চীনেরও আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের প্রতি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের নিজস্ব চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। পরিকল্পিত এক শ অর্থনৈতিক অঞ্চল পুরোপুরি সক্রিয় হলে বাংলাদেশের নিজস্ব আমদানি-রপ্তানিও বহুগুণে বেড়ে যাবে। আবার বন্দর থেকে বন্দর সেবা কার্যক্রমও ক্রমে বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশে বন্দর সুবিধা ক্রমান্বয়ে আরো বাড়াতে হবে। সেদিক থেকে ভাবলে পায়রা সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ আরো আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল। বর্তমান সরকার সেই অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শুরু করেছে। একই সঙ্গে বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল সংযোগ স্থাপনের কাজও শুরু হয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর কাজ আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্দর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। পায়রায় বিদ্যুৎ হাব তৈরির কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা এরই মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। আশা করা যায়, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে এক দশকের মধ্যে আমরা এক ভিন্ন দক্ষিণাঞ্চল দেখতে পাব।

পায়রা সমুদ্রবন্দরের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে আমাদের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে সর্বাধিক কাজে লাগাতে হবে। সড়কপথের তুলনায় নদীপথে পণ্য পরিবহন অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আর বাংলাদেশ প্রকৃতিগতভাবে নদ-নদীর দেশ। নদীগুলোকে নাব্য রাখা গেলে এবং প্রধান নদীগুলোতে অন্তত বড় নৌযান চলাচল করতে পারলে পায়রা বন্দর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হবে। আমরা আশা করি, পায়রা বন্দর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অনেক বেশি ত্বরান্বিত করবে।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: