রূপগঞ্জে নিহতদের ‘ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল’
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮
মেডিকেল বোর্ডে ব্যক্তিগত চিকিৎসক অন্তর্ভুক্তির দাবি বিএনপির
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান

জাকির হোসেন: নদীভাঙন আবহমানকাল থেকে চলে আসা একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এক কূল ভাঙবে, আরেক কূল গড়বে—এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু তারও কিছু সীমা-পরিসীমা থাকে, প্রতিরোধেরও কিছু উপায় থাকে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন চলছে সাত-আট বছর ধরেই। ক্রমে প্রতিবছর ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে।

প্রথম দিকে বছরে আধাবর্গকিলোমিটার এলাকা বা তার কিছু বেশি ভেঙেছে, গত বছর ভেঙেছে এক বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি এলাকা। এ বছর এরই মধ্যে দুই বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ভাঙনের শিকার হয়েছে। জানা যায়, সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওলজিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ভাঙন শুরুর চার মাস আগেই এবার ভাঙন ব্যাপক হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু তাকে আমলে নিয়ে ভাঙন ঠেকানোর পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকার হাজার হাজার পরিবার গৃহহারা হয়েছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি ফসলি জমি, গাছপালা পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। অনেক স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাজারসহ অনেক স্থাপনাই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে যে পরিমাণ খরচ হতো, ভাঙনে ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

শুধু নদীভাঙন নয়, প্রাকৃতিক আরো অনেক কারণেই বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকৃতি ক্রমেই বৈরী হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয় বেড়ে যাওয়া, নদীর উজানে প্রতিবন্ধকতা, অতিরিক্ত পলি এসে নদী ভরাট হওয়াসহ নানা কারণে প্রকৃতি ক্রমেই বেশি করে বৈরী হচ্ছে। দক্ষিণে ক্রমেই বেশি করে এলাকা নোনা পানিতে ডুবে যাচ্ছে। উত্তরে খরা তীব্র হচ্ছে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙনের মতো ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়াও ক্রমে বেশি ঘটছে। নদীর একদিকে চর জাগছে, অন্যদিকে লোকালয় হারিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই বদ্বীপ অঞ্চলের মাটিও অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ। তাহলে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কী হবে?

প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশে আমাদের প্রকৃতির বিরুদ্ধে যথাসম্ভব লড়াই করেই বাঁচতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আশু মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে। সম্প্রতি সরকারের গ্রহণ করা ডেল্টা প্ল্যান এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এর যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তা ছাড়া তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু আশু কর্মসূচি থাকতে হবে। কোথাও কারো কোনো গাফিলতি যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সিইজিআইএস ভাঙন শুরুর চার মাস আগে পূর্বাভাস দিলেও নড়িয়ায় ভাঙনরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: