অক্টোবরের শেষ দিকে আইফোন ১০আর বাজারে আসবে
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮
বিয়ে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য সালমানের
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

কোটা পর্যালোচনা প্রতিবেদন: সুপারিশ খতিয়ে সিদ্ধান্ত নিন

জাকির হোসেন: কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য ‘সচিব কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় সময় বাড়ানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে। সরকারি চাকরির নবম থেকে ১৩শ গ্রেড (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগে সব ধরনের কোটা বাতিল করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এসব পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

সুপারিশমালা এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আন্দোলনকারীরা এ প্রতিবেদনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। অন্য গ্রেডগুলোতেও যৌক্তিকভাবে কোটা সংস্কার করার দাবি জানিয়েছে তারা।

কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্যেই গত ২ জুলাই কোটাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সংস্কার বা বাতিল করার বিষয়ে সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদসচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে মেয়াদ ৯০ কার্যদিবস বাড়ানো হয়। কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টির পর্যালোচনা করেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১৪শ থেকে ২০তম গ্রেড) চাকরি তাদের কার্যপরিধিতে ছিল না।

কোটা ইস্যুতে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছিল। যারা পক্ষে তাদের সংস্কারের দাবিটাই মুখ্য, সম্পূর্ণ বাতিল নয়। অন্য পক্ষ আপাতত যেমন আছে তেমনই রাখার পক্ষে। এরই মধ্যে সরকারপ্রধান ঘোষণা করেন, সব কোটা বাতিল করা হবে। এ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। কারণ স্থান ও গোষ্ঠীভেদে কোটা সুবিধা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোটার হার নির্ধারণ ও রক্ষা করা অনড়, অপরিবর্তনীয় কোনো বিষয়ও নয়।

সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী উল্লিখিত গ্রেডগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগও বাতিল হওয়ার কথা। যদিও এ কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে এত দিন সরকারপক্ষ বলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে কমিটির প্রধান বলেছেন, আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, এটি সরকারের নীতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত; তাই এটি আদালতের রায়কে স্পর্শ করবে না। প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে কমিটিপ্রধান বলেছেন, এখন আর পিছিয়ে পড়া কোনো জনগোষ্ঠী নেই। তাই তাদের জন্য কোটার সুপারিশ করা হয়নি।

কোটার বিষয়টি পর্যালোচনা করে যে সুপারিশ করা হয়েছে, এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে কি না তাও বিবেচনা করতে হবে। রাষ্ট্রের কল্যাণী ভূমিকার বিষয়টি যেন অস্বীকার করা না হয়। সরকারপ্রধান ভেবেচিন্তে সুপারিশ অনুমোদন করবেন—এ আশা করি।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: