‘আলোচনার জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত’
আগস্ট ১১, ২০১৮
২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা
আগস্ট ১২, ২০১৮

দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ: চাহিদা অনুযায়ী সংখ্যা বাড়াতে হবে

জাকির হোসেন: বাংলাদেশে দুর্ঘটনার হার খুব বেশি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় ১২ হাজার মানুষ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবেও এই সংখ্যা ১১ থেকে ১২ হাজারের মধ্যে। এত বেশি দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রধানত দায়ী করা হয় অবৈধ ও অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, গাড়ির ফিটনেস না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতাকে। সম্প্রতি রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার জের ধরে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। সপ্তাহজুড়ে চলে তাদের তীব্র বিক্ষোভ। আর তাতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলে বড় ধাক্কা লাগে। শুরু হয় সড়কের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ। পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। বহু যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে। রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং, গতি নিয়ন্ত্রক স্থাপনসহ আরো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সারা দেশে এক লাখ দক্ষ চালক তৈরির একটি কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ৬০ হাজার এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) ৪০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেবে।

দক্ষ চালক তৈরির এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তা সত্ত্বেও বলতে হবে, এটি প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। বর্তমানে ৪০ লাখের মতো গাড়ি চলাচল করে রাস্তায়। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই। যাদের লাইসেন্স আছে তাদেরও বেশির ভাগের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। অন্য চালকের কাছ থেকে কোনো রকমে স্টিয়ারিং ধরতে শিখেই লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছে। ফলে রাস্তার নিয়ম-কানুন কিংবা আইন সম্পর্কেও তাদের ধারণা কম। নতুন উদ্যোগে চালক তৈরির জন্য চার মাসে ৩৬০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এতে সড়কে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়েই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু যেভাবে প্রতিদিন সড়কে নতুন নতুন গাড়ি নামছে, তাতে আগামী পাঁচ বছরে আরো কয়েক লাখ গাড়ি রাস্তায় নামবে। প্রয়োজন হবে কয়েক লাখ চালকের। বাকি চালক আসবে কোত্থেকে? নিশ্চয়ই আগের পদ্ধতিতে। তাহলে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কি?

আমরা মনে করি, দক্ষ চালক তৈরির এই উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণ করতে হবে। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত চালক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। বেসরকারি যেসব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে, তাদের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে এবং সেগুলোতে যাতে মানসম্মত প্রশিক্ষণ চলে তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুরনো চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন কোর্সের ব্যবস্থা করতে হবে। লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া নিখুঁত করার পাশাপাশি সড়কে আইনের বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: