ফেসবুক পেজ চালাতে নতুন নিয়ম, না মানলে বন্ধ!
আগস্ট ১৪, ২০১৮
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ’
আগস্ট ১৪, ২০১৮

থেমে নেই সড়কে মৃত্যু: দায়ীদের কঠোর শাস্তি দিন

জাকির হোসেন: ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করুন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক’—এই স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছিল। এর সুফলও পাওয়া যায় বলে জানানো হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর পর ফিটনেসবিহীন যানবাহন উঠে যাওয়ায় ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে ঢাকাসহ সারা দেশের পরিবহনব্যবস্থা। আবার আগের মতো ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন রাস্তায় নেমেছে। লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে যানবাহন।

নরসিংদীর শিবপুরে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের সোনাইমুড়িরটেক এলাকায় বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হল- সজল (২০), সিগ্ধা (৮), প্রান্তিকা (৬) ও বৃষ্টি (৭)। তাদের সবার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলবে। নিহত অন্যদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এছাড়া গত রবিবার এমনই এক বাস চাপা দিয়েছে জিয়ন নামের এক স্কুলছাত্রকে। যশোরের মণিরামপুর, নাটোরের বড়াইগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, জামালপুরের সরিষাবাড়ী, চট্টগ্রামের মিরসরাই, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও ঢাকার সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে আরো ছয়জন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, রংপুরে জিয়নকে চাপা দেওয়া বাসটিরও কোনো ফিটনেস সনদ ছিল না। হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নিয়ে বাস চালাচ্ছিল চালক। অর্থাৎ বাস মালিক আইনের প্রতি যে মোটেও শ্রদ্ধাশীল নন, তা এ থেকেই অনুধাবন করা যায়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, যানবাহন চালক ও মালিকদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটার পরও নির্বিকার থাকতে দেখা যায় তাদের। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কয়েকটি দিন সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে দেখা গেলেও এখন তার লেশমাত্র নেই। রাজধানীতে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে। আইনের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। নেই কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতাও। আর সে কারণেই ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেও সারা দেশে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে থাকছে গাড়ির স্টিয়ারিং। যখন কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয় তখন রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদবিহীন যানবাহন সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযান শেষে আবার তা রাস্তায় নামানো হয়। বিআরটিএর তথ্য অনুসারে, বর্তমানে সারা দেশে যানবাহন আছে ৩৫ লাখ ৪২ হাজার। কমবেশি পৌনে ১২ লাখ যানবাহনের প্রতিবছরই ফিটনেস সনদের প্রয়োজন হয়। গত বুধবার পর্যন্ত ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ছিল চার লাখ ৯৯ হাজার। অর্থাৎ ফিটনেস দরকার হয় এমন যানবাহনের প্রায় ৪৩ শতাংশেরই এখন বৈধতা নেই। অন্যদিকে সারা দেশে লাইসেন্সধারী চালক আছে প্রায় ২৬ লাখ ৪০ হাজার জন। এর মধ্যে পেশাদার চালকের সংখ্যা ১২ লাখের একটু বেশি।

রংপুরে জিয়নকে চাপা দেওয়া বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মালিককেও শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি আমরা। প্রত্যাশা করছি, সব পক্ষের সহযোগিতায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: