গোপালগঞ্জের একটি ইউনিয়নে ভাতাভোগীদের নাম বাদ দেয়ায় এলাকায় অসন্তোষ
আগস্ট ২০, ২০১৮
আশাশুনি-কোলা-ঘোলা সড়কের বেহাল দশা; দ্রুত সংস্কারের দাবী
আগস্ট ২০, ২০১৮

চাকুরী শেষে আমি জনগনের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই: মনোনয়ন প্রত্যাশী আতাউর রহমান

আওলাদ হুসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: আমি জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে এ অঞ্চলের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন সচেষ্ট থাকবো। আমার এলাকার মানুষের মতই আমিও অখন্ড কালিগঞ্জের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু বাস্তবতায় খণ্ডিত কালিগঞ্জ এখন দুটি আসনে বিভক্ত। একটি সাতক্ষীরা-৩ অপরটি সাতক্ষীরা-৪। আমি সাতক্ষীরা ৪ আসনের জনগনের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় কালে একথা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশের অবসর প্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার শেখ আতাউর রহমান।

তিনি বলেন উন্নয়নের গতিধারা যাতে স্থায়িত্ব লাভ করে সেজন্য আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আর এজন্য আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি।

সবার দোয়া চাই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে জনগনের সেবা করেই কাটাতে চাই বাকি জীবন। আমি তার পক্ষে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবো। শেখ আতাউর রহমান বলেন ২০১৩ সালের জামায়াতি সহিংসতার সময় মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ এবং সর্বোপরি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। সে সময় আমি যেটুকু পেরেছি জনগনকে সহায়তা দিয়েছি। তিনি বলেন আমি শ্রীপুরে মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার রাজনৈতিক পরিচয় বলতে আমি তৃনমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি। আওয়ামী লীগ ও সমমনা দল এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তি আমার প্রতি আগ্রহী। ২০০৮ সালে পুলিশের চাকুরি থেকে অবসর নেওয়ার পর আমি নির্বাচনী ভাবনায় নেমেছি। এখন আমি তৃনমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশগ্রহনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন ৯ নম্বর সেক্টরে আমি মেজর জলিলের সাথেই ছিলাম। তিন ছেলের একজন সেনা কর্মকর্তা, অপর দুইজন প্রকৌশলী হয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে বসবাস করেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন কল্যানমূলক কাজ হিসেবে কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুরে বিএম টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, কফিলউদ্দিন মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা, বাজারগ্রাম রহিমপুর ও কাশেমপুর মসজিদের প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করে জনগনের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করেছি।

তিনি জানান ছাত্রজীবনে তিনি খুলনা সিটি কলেজে লেখাপড়ার সময় ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ এ সংগ্রাম পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। ভারতের বিহারের চাকুলিয়ায় মুক্তিফৌজ প্রশিক্ষন গ্রহন করেন তিনি। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে সিলেকশন পেয়ে কমিশন র‌্যাংক ট্রেনিং গ্রহন এবং ৫ আগস্ট তৃতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসাবে ব্রেভো কোম্পানীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সেনাবাহিনীর ডেপুটী চীফ অব স্টাফ জেনারেল জিয়াউর রহমান কর্তৃক তিনি সহ ১৪ জন অফিসার চাকুরিচ্যুত হন। পরে ১৯৭৩ সালে তিনি যোগদান করেন পুলিশ বাহিনীতে। আতাউর রহমান আরও বলেন ২০০৭ সালে জোট সরকারের আমলে তিনি আবারও চাকুরিচ্যুত হন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আংশিক তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে পুরস্কৃত হন।

মত বিনিময় সভায় তার সহযোগী শুভাকাংখী হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল হামিদ, আওয়ামীলীগ নেতা অমল কুমার ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলী মাস্টার, জাসদ (ইনু) নেতা মোদাচ্ছের হোসেন ঝন্টু, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক সুকুমার দাস বাচ্চু প্রমুখ।

তিনি বলেন সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে জনগনের সেবা করতে চাই। মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন জনগন আমাকে নির্বাচিত করলে আমি তাদের কল্যানে কাজ করে যেতে পারবো।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: