হ্যাকিং থেকে বাঁচতে যা করবেন
আগস্ট ১৫, ২০১৮
কুয়াকাটায় মাকে বেঁধে মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা
আগস্ট ১৫, ২০১৮

গোলাম সারওয়ারের মৃত্যু: সংবাদপত্রশিল্পের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি

জাকির হোসেন: চলে গেলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম প্রাণপুরুষ গোলাম সারওয়ার। পাঁচ দশকের বেশি সময়জুড়ে নিরলস শ্রম, কঠোর অভিনিবেশে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে। অসামান্য পেশাদারির মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রশিল্পকে ঋদ্ধ করেছেন। শিল্প হিসেবে সংবাদপত্রশিল্পের আজকের যে অবস্থান, তার পেছনেও পথনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যু দেশের সংবাদপত্রশিল্প ও সাংবাদিকতা জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ছাত্রজীবনেই তাঁর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। চট্টগ্রামের পাঠকপ্রিয় দৈনিক আজাদীর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে শুরু তাঁর বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবন। একই বছর যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সেখানে কাজ করেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর সিদ্ধান্ত নিতে একটুও বিলম্ব হয়নি তাঁর। কলম ফেলে হাতে তুলে নেন অস্ত্র। মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তাঁর নিজের এলাকা বানারীপাড়ায়। মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েক মাস বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৭২ সালে ইত্তেফাকে সিনিয়র সহসম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান সহসম্পাদক, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক থাকা অবস্থায় তিনি সিনে সাপ্তাহিক পূর্বাণীর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯৯ সালে যুগান্তর প্রকাশিত হলে তিনি এর সম্পাদক নিযুক্ত হন। ২০০৫ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমকাল।

মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীল মূল্যবোধ আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সোচ্চার গোলাম সারওয়ার মননে ছিলেন প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার মানুষ। আজকের দিনে প্রতিষ্ঠিত অনেক সাংবাদিকের কাছেই তিনি পেশাশিক্ষক হিসেবে সম্মানিত। অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার নিরবচ্ছিন্ন চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সংবাদপত্রকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিরলস শ্রম দিয়েছেন। মেধার পরিচয় রেখেছেন। সৃজনশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতায় অতুলনীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গোলাম সারওয়ার সংবাদসাহিত্যে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সৃজনশীল সাহিত্যেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। একসময় ছড়া লিখতেন। লিখেছেন গান। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ছড়ার বই ‘রঙিন বেলুন’। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘সম্পাদকের জবানবন্দি’, ‘অমিয় গরল’, ‘আমার যত কথা’, ‘স্বপ্ন বেঁচে থাক’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগৎ এক অভিভাবককে হারাল।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: