বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী আর নেই
আগস্ট ১৯, ২০১৮
বন বিভাগের কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় রেডএলার্ট জারি
আগস্ট ১৯, ২০১৮

ঈদুল আযহায় সাতক্ষীরার মসলা বাজার জমজমাট; ব্যস্ত সময় পার করছে কামারেরা

আওলাদ হুসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ঈদুল আযহার প্রস্তুতির শেষ নেই, পছন্দের গরু আর খাসি সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজন মসলা, ঈদের মাংসের পরিপূর্ণতা আনায়নে মসলার বিকল্প নেই। মাংস রান্নার উপকরন নানান ধরনের মসলার ব্যাপক উপস্থিতি বাজারময় কেবল মসলার উপস্থিতি তা নয় চাহিদার ক্ষেত্র ও বিস্তৃত। আর মসলার চাহিদার এই মুহুর্তকে সঙ্গী করে এক শ্রেণীর মসলা ব্যবসায়ীরা মসলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মূল্য বৃদ্ধির অনৈতিক প্রতিযোগিতায় যেন লিপ্ত না হয়। সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সতর্ক থাকতে হবে।

মসলা বাজার মনিটরিং করনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনা চলছে বিশেষ করে ভোক্তা সাধারণ তথা ক্রেতারা চাইছেন মসলা বাজার যেন কোন ভাবেই অস্থিতিশীল না হয়। এই প্রতিনিধি গতকাল সাতক্ষীরা শহরের বড়বাজারের মসলা বাজারে সরেজমিনে পরিদর্শন করে মসলা ব্যাপক উপস্থিতি এবং জমজমাট বিক্রি প্রত্যক্ষ করেছেন। মাংসের মসলা হিসেবে আদার বিকল্প নেই, সারা বছর আদার মুল্য সত্তর/আশি টাকার মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমান সময়ে আদা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে একশত টাকা, ক্রেতাদের অভিযোগ ঈদ উপলক্ষে আদার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মরিচ এবং জিরে এই জমজ মসলার সাথে আমাদের পরিচিতির শেষ নেই জিরে মরিচের মূল্য বছরের অন্যান্য সময়ের অপেক্ষা খুব বেশী হেরফের ঘটেনি মাংসের মসলা হিসেবে এলাচের সুখ্যাতি দীর্ঘদিনের বাজারে বর্তমান সময়ে প্রতিকেজি এলাচ ষোলশত পঞ্চাশ হতে সতের শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে, লবঙ্গ কেজি প্রতি নয়শত টাকা, ডালচিনি দুইশত আশি হতে তিনশত টাকা জায়ফল পাঁচশত পঞ্চাশ হতে ছয়শত টাকা, জয়ত্রী আঠারশত হতে আঠারশত পঞ্চাশ টাকা, দেশী পেয়াজ ষাট হতে পয়ষট্টি এবং বিদেশী পেয়াজ ত্রিশ হতে পয়ত্রিশ টাকা, চুইঝাল কেজি প্রতি ছয়শত হতে ছয়শত পঞ্চাশ টাকা, রসুন কেজি প্রতি ষাট হতে পঁয়ষট্টি টাকা, হলুদ গুড়া কেজি প্রতি একশত সত্তর টাকা, গুড়ো ঝাল কেজি প্রতি দুইশত চলি¬শ টাকা, শহরের বড় বাজারের পাশাপাশি মফস্বল বাজার গুলোতেও মসলার বিক্রির বেড়েছে।

দৃশ্যত: মসলা বাজার জমজমাট আকার ধারন করেছে। বাজারের ফসলি মসলার পাশাপাশি প্যাকেটজাত করণ মাংসের মসলার উপস্থিতি এবং বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতাদের অনেকের মন্তব্য প্রতিবছরই, ঈদের কাছাকাছি সময়ে মসলার মূল্য বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবার যেন তেমনটি না হয়, ঈদ প্রস্তুতিতে শেষ মুহুর্তে ব্যস্ততা বেড়েছে। দিনরাত ঠুং ঠাং আর আগুনের ফুলকির ব্যবহার চলছে তো চলছে। শহরের এবং মফস্বলের কামাররা দা, ছুরি, চাপাতি, হাসুয়া, বিভিন্ন ধরনের বাটকারা তৈরী করছে তো করছে। একাধিক কামার শিল্পীর সাথে কথা বলে জানাগেছে তারা বর্তমান সময়ে নতুন করে কোন অর্ডার নিচ্ছে না। এবং পুরাতন দা ছুরি, চাপাতি, নতুন ভাবে তৈরী করারও খুব বেশী সময় পাচ্ছে না, তারা বর্তমানে নতুন নতুন দা, ছুরি, চাপাতি সহ কাটা মাংস তৈরীর, বিভিন্ন উপকরন তৈরী করে তা পাইকারী এবং খুচরা বাজারে বিক্রি করছে। বাজারের নতুন, দা ছুরির বিক্রিও বেড়েছে। সমিল গুলোতে মাংস কাটার কাঠের স্তম্ভ তৈরীর অর্ডার এবং ক্রয় বিক্রয়ের বিষয়টি বিশেষ ভাবে চোখে পড়ছে।

কুরবানী অন্যতম উপকরণ কাঠের স্তম্ভ, শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং মফস্বলের দোকানে দোকানে অন্যান্য পণ্য সামগ্রীর প্রায় কাঠের স্তম্ভ বিক্রি হচ্ছে। মসলা বাজার এগিয়ে চলেছে। বিক্রির শেষ নেই অনুরুপ ভাবে কামারদের ব্যস্ততার শেষ নেই সব মিলে ঈদুল আযহার প্রস্তুতিতে সকলেই ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: