গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়ক ভেঙ্গে ৭ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ; জনদূর্ভোগ
জুন ২৬, ২০১৮
এবার বিয়েতে যৌতুক ১০০১টি ফল গাছের চারা!
জুন ২৬, ২০১৮

চলছেই মাদক বেচাকেনা: অভিযানের দুর্বলতা দূর করুন

জাকির হোসেন: দেশব্যাপী চলা মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে মাদক কারবারের রমরমা কিছুটা কমলেও কেনাবেচা খুব একটা কমেনি। গত ১৬ জুন শুরু হওয়া এ অভিযানে মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বড় কারবারি বা মূল হোতারা খুব একটা ধরা পড়েনি। আবার যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরও অনেকে জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন করে কারবারে যুক্ত হচ্ছে বলে জানা যায়। এটা অবশ্য ঠিক, মাদক কারবারের পরিসর কিছুটা কমেছে। কিছুদিন আগেও কিছু এলাকায় প্রায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলত, তা আর সেভাবে দেখা যায় না। কিন্তু গোপনে, বিশেষ করে মোবাইল ফোনে মাদক বিক্রি বেড়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। মাদক কারবারিদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষ এই অভিযানে সন্তুষ্ট হলেও তারা বড় কারবারিদের এবং পুলিশের কিছু সদস্যের অনৈতিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা চায়, ভয়াবহ মাদকের থাবা পুরোপুরি নির্মূল হোক।

দেশে ভয়ংকর রূপে মাদকের যে বিস্তার ঘটেছে তা এক দিনে হয়নি। এর জন্য দায়ী দীর্ঘদিনের অবহেলা। পাশাপাশি রয়েছে মাদকবিরোধী আইনের দুর্বলতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা এবং পুলিশসহ মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সদস্যদের অনৈতিক লোভের কারণে দায়িত্ব পালনে শিথিলতা। যতদূর জানা যায়, বাংলাদেশে ব্যবহৃত মাদকের বেশির ভাগই আসে বাইরে থেকে, বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মাদক ঢুকবেই এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে। আইনের দুর্বলতার জন্য হাতেনাতে মাদকসহ ধরা না গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। গ্রেপ্তার করলেও জামিন পেতে খুব একটা দেরি হয় না। পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে বখরা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে কারবারিরাও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ তাদের ভয় পায় এবং অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে উৎসাহ পায় না। কার্যকরভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এই দুর্বলতাগুলো দূর করতেই হবে। গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, বর্তমান আইনের দুর্বলতা কাটাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে পৃষ্ঠপোষক, গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। আইনটি দ্রুত জাতীয় সংসদে অনুমোদন ও কার্যকর করতে হবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফোরাম থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। তার মধ্যেও আছে বিচারপ্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করে আনার উদ্যোগ নেওয়া, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহিদের আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া, পুলিশ স্টাফ কলেজ ও লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে অধিদপ্তরের কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও তথ্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মাদকবিরোধী প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা। মোবাইল ও অন্যান্য মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করাও জরুরি। আমরা বর্তমান মাদকবিরোধী অভিযানের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: