ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা বলিভিয়ার
জুন ২৭, ২০১৮
ইউসুফ নবীর মাজারে ইসরায়েলি হামলা, অর্ধশত ফিলিস্তিনি আহত
জুন ২৭, ২০১৮

কোথায় যাবে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত?

জাকির হোসেন: বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা এখন যেসব সুবিধা ভোগ করছেন, তারা জীবনে কখনও এমন সুযোগ-সুবিধা পাননি। তাদের বেতন ৪০ হাজার টাকা থেকে এক লাফে ৮২ হাজার টাকা হয়েছে। তাদের পেনশনে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়েছে…। আমার মনে হয় তাদের আর দাবি নেই।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোন্ মুখে আপনারা বলেন, এই দেশে গরিব মারার বাজেট হচ্ছে, ধনীকে তেল দেয়ার বাজেট হচ্ছে? বোঝাতে চাচ্ছেন দেশের উন্নয়ন কিছুই হয়নি।’

দারিদ্র্যের হারের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশ। আপনাদের যখন জন্ম হয়েছে কিংবা জন্মের আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। বোঝেন, কোথায় ছিল বাংলাদেশ এবং এখন কোথায় এসেছে। এই কিছুদিন আগে দেশে ৩০ শতাংশ মানুষ ছিল গরিব। ৭ বছর আগে সাড়ে ৩০ শতাংশ দরিদ্র ছিল, আজ ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। যারা চূড়ান্ত গরিব, তাদের সংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ।’

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ৪০ হাজার থেকে এক লাফে ৮২ হাজার টাকা, বৈশাখী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার কথা বলে লেখার কলেবর বড় করতে চাই না। প্রস্তাবিত বাজেটে আবার সহজ শর্তে গৃহঋণ সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তার মানে ষোলআনায় ভরপুর সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জিনিসপত্র, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস বিল, স্কুলের বেতন সবই বেড়েছে, সে কথা কিন্তু অর্থমন্ত্রী বলেননি।

অথচ সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে এসেছে, ‘কর্মজীবী মানুষের আয় কমছে।’ সার্বিকভাবে এতে সমাজে আয়বৈষম্য ও অসাম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণেই সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এখন সর্বোচ্চ।

এরপরও যদি বলা হয়, মানুষ এখন অনেক সুখী, জিডিপি বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, তাহলে কি এসব তামাশা মনে হয় না? ২০১৩ সালে একজন কর্মজীবী প্রতি মাসে গড়ে ১৪ হাজার ১৫২ টাকা মজুরি পেতেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসে তা কমে ১৩ হাজার ২৫৮ টাকা হয়েছে। প্রকৃত আয় কমেছে আড়াই শতাংশের উপরে, অথচ ব্যয় বেড়েছে দুই-তিনগুণ।

অন্যদিকে পুরুষদের চেয়ে নারী কর্মজীবীদের আয় আরও বেশি কমেছে। সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

অথচ দুঃখজনক বিষয়, বাজেটে বস্তিবাসী ও ভাসমান মানুষের জন্য গৃহনির্মাণের কোনো উদ্যোগের কথা নেই। বিপুলসংখ্যক ছিন্নমূল মানুষের চিন্তা বাদ দিয়ে তেলা মাথায় তেল দিতে গৃহহীন, নিম্নবিত্ত ও শ্রমিকের ঘামের মূল্য না দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ওপর সহজ শর্তে গৃহঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া ইতিপূর্বে শতভাগ পে-স্কেল, বৈশাখী ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সরকারি চাকরিকে লোভনীয় করে তোলা হয়েছে। সব সুবিধাই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য। অথচ সরকারের দিক থেকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই।

নতুন এমপিওভুক্তিরও ঘোষণা নেই। উল্টো মধ্যবিত্তের মাথায় করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। অবস্থা এমন যে, নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা দেশ থেকে বের হয়ে যাক। কারণ উচ্চবিত্তের দেশে সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া মধ্যবিত্তের থাকার কোনো অধিকার নেই!

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: