কোটা আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ককে হত্যার হুমকি ছাত্রলীগের
জুন ৩০, ২০১৮
গত ১০ বছরে ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার
জুন ৩০, ২০১৮

অর্থপাচার প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি

জাকির হোসেন: আগের তিন বছরের তুলনায় গত বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আর গত এক বছরে কমেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। কিন্তু তার পরও সুইস ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ রয়ে গেছে চার হাজার কোটি টাকার ওপরে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এখনো এটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বা সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ কেন কমে এসেছে সেই প্রশ্নের জবাব এখনো স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে, নাকি সুইস ব্যাংক কিছু তথ্য ছাড় করতে শুরু করায় পাচারকারীরা অন্যত্র অর্থ সরিয়ে নিয়েছে—তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এটা ঠিক, সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের সবটাই পাচার করা নয়। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক আমদানি বিল পরিশোধের জন্যও সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখে। আবার সুইজারল্যান্ডে এখন অনেক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাঁরাও তাঁদের উপার্জিত অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা রাখেন। বৈধ সূত্রগুলো কী পরিমাণ অর্থ জমা রেখেছে তা জানা গেলে হয়তো পাচার করা অর্থের পরিমাণ জানা যেত। কিন্তু তা আপাতত সম্ভব নয়। কারণ এখনো সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকিং তথ্য বিনিময়ের কোনো চুক্তি হয়নি। তা সত্ত্বেও বলা যায়, এখানে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণটাই বেশি। ভারত ১২০ কোটি মানুষের দেশ। আমাদের চেয়ে ভারতের অনেক বেশি মানুষ সুইজারল্যান্ডে কর্মরত। তারাও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমায়। ভারতের ব্যাংকগুলোও আমদানি বিলের বিপরীতে সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখে এবং সেই অর্থের পরিমাণও আমাদের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও সুইস ব্যাংকে গত বছর ভারতীয়দের জমানো অর্থের পরিমাণ ছিল সুইস মুদ্রায় ১০০ কোটি ফ্রা, যা বাংলাদেশের দ্বিগুণের মতো। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় সমান। এটি বাংলাদেশের জন্য মোটেও কোনো স্বাভাবিক চিত্র হতে পারে না, তা যতভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এমনটা ঘটেছে অর্থপাচারবিরোধী আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে। ঠিক একই চিত্র দেখা যায় পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও। ২০১৭ সালে সুইস ব্যাংকে পাকিস্তানিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ভারতের চেয়েও বেশি, ১১০ কোটি ফ্রা। আর ২০১৬ সালে তা ছিল ভারতের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ১৩৯ কোটি ফ্রা।

সাধারণত ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমেই বেশি অর্থ পাচার হয়। এর পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমেও অনেক অর্থ পাচার হয়। এসব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরো কড়াকড়ি করতে হবে। আবার দেশে বিনিয়োগের সুযোগ কম থাকলেও অর্থপাচার বেড়ে যায়। তাই বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ উন্নয়নের দিকেও আরো মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি সুইস ব্যাংক ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকের তথ্য পাওয়ার জন্য সেসব দেশের সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে অর্থপাচার বন্ধের কোনো বিকল্প নেই।

মো: জাকির হোসেন: সম্পাদক, সিটিনিউজ সেভেন ডটকম।

সিটিনিউজ সেভেন ডটকম /এম.এস

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: